দেশের সর্ব দক্ষিণে সাতক্ষীরা জেলার কিছু মটরবাইক প্রেমিদের উদ্যোগে গঠিত সাতক্ষীরা রাইডার্স। তারা বিভিন্ন সচেতনতা ও সামাজিক কাজের পাশাপাশি নিজেদের আনান্দের জন্য দেশ জয় করেই চলেছে মটর বাইক যোগে।
মটর সাইকেল যোগে সিলেটঃ
সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ৫৫০+ কিঃমিঃ পথ সিলেট। গত ২৭/০৯/২০১৯ তারিখে সাতক্ষীরা রাইডার্সের কিছু সদস্য সন্ধ্যার সাথে সাথে সিলেটের পথে রওনা দেয়। সকাল ৬ টায় তারা ঢাকায় পৌঁছায় সেখানে কিছুক্ষন যাত্রা বিরতি নিয়ে সকাল ৯ টায় পুনরায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সন্ধ্যার সাথে সাথে তারা সিলেটের জিন্দাবাজারে অবস্থান করে।
আমারা গ্রুপের অ্যাডমিন- আশিকুর রহমান, সোহানুর রহমান, রইস মাহমুদ ও মডারেটর ফরহাদ হোসেন মীম এর সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত যে সকল বিষয় জানতে পারিঃ
সিলেট শহরে রাত্র যাপনঃ
সিলেটে থাকার জন্য অনেক হোটেল পাবেন কিন্তু জিন্দাবাজারে থাকলে খাওয়া দাওয়া সহ ভালো হোটেল ও পাবেন। আমরা ছিলাম হোটেল রাজমহলে তাদের ব্যবহার ভালই ছিল এবং পরিবেশ ও ভালো।
বলে রাখা ভালো আমরা মোট ৭ জন ছিলাম ২ টি রুম নিয়ে।
২ রুমের ভাড়া ১৮০০ টাকা সাথে বাইক পার্কিং।
সাতক্ষীরা রাইডার্সের চট্রগ্রাম বিভাগ ট্যুর দেখে নিনঃ সাজেক ট্যুর
সিলেট শহরে কোথায় খাবেনঃ
সিলেটের নামকরা খাবার হোটেলের মধ্যে আছে পাঁচ ভাই হোটেল ও পানসি হোটেল। খুবই সাশ্রয়ী মুল্যে ভালো মানের খাদ্য তারা পরিবেশন করে।
কোথায় কোথায় ঘুরেছেনঃ
যেহেতু আমরা ২৭/০৯/১৯ তারিখ থেকে ০৩/১০/১৯ মোট ৭ দিন ভ্রমন করেছি ৭ দিনে আমরা যেই যেই স্থানে ঘুরেছি তা হলঃ
১ম দিনঃ
১। ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর
২। বিছানাকান্দি
২য় দিনঃ
৩। রাতারগুল
৪। হযরত শাহজালাল এর মাজার
৩য় দিনঃ
৫। জাফলং
৪র্থ দিনঃ
৬। শ্রীমঙ্গল হামহাম জলপ্রপাত
৫ম দিনঃ
৭। চা বাগান
৮। নীলকণ্ঠ ৭ রঙ এর চা
৯। গ্রান্ড সুলতান হোটেল
৬ষ্ঠ দিনঃ
১০। ঢাকা
রাত্র ঢাকা থাকার পর আমরা সরাসরি সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে বাহির হয়েছি।
সিলেট ভ্রমনের বিশেষ পরামর্শঃ
সিলেট ঘুরে দেখার জন্য যেই বিষয় গুলো খেয়াল করা উচিৎ তা হলঃ
১ম দিন যেয়ে সিলেট শহর থাকতে হবে। এরপর ভোরে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে যাওয়ার জন্য ভোরে বাহির হতে হবে। সেখান থেকে বিছানাকান্দি যেয়ে এর আসে পাশে বা রাতারগুল এর আশে পাশে থাকতে পারলে পরবর্তী দিন সহজ হবে রাতারগুল দেখে জাফলং যাওয়ার জন্য। কেননা এগুলো সব একই পাশে সুতরাং সিলেট শহরে থাকলে একই পথে বার বার যাওয়া লাগবে।
জাফলং রাত্রি যাপনঃ
আমরা জাফলং রাত্রি যাপন করেছি মেঘালয় হোটেলে। ২ তলা বিশিষ্ট এই হোটেলে বিশাল বাগান এবং ২ তলায় ২ টি বড় রুম ও একটি ছোট রুম আছে । আমরা ২ তলা ভাড়া নিয়েছিলা। সেখানে আমরা রাত্রে BBQ পার্টি করেছি। হোটেলে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা আপনারা পাবেন।
ভাড়া ২০০০ প্রতি দিন।
শ্রীমঙ্গল রাত যাপনঃ
শ্রীমঙ্গলে রাত্র যাপন করার জন্য অনেক হোটেল পাবেন। আমরা ছিলাম হোটেল মেরিনাতে। এটি শ্রীমঙ্গলের একটি বিলাশ বহুল হোটেল। আমরা একটি নন এসি বড় রুম নিয়েছিলাম যেখানে ৩ টি বড় বেড ছিল।
ভাড়া ২০০০ প্রতি দিন।
হামহাম জলপ্রপাতঃ
শ্রীমঙ্গল থেকে সরাসরি হামহাম যাওয়ার পূর্বে পাহাড়ে প্রবেশের পূর্বে বাইক সামনে রেখে যেতে পারবেন। খাওয়ার জন্য খুবই অল্প টাকায় সেখানে রান্না করতে বলে যেতে পারবেন।
হামহাম যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রায় ২ ঘন্টা হেটে ঝর্না পর্যন্ত যেতে পারবেন। যদি সম্ভব হয় পাহাড়ের উপরে ঝর্নার পানি যেখান থেকে আসছে ঐখানে উঠতে পারেন।
আমাদের মধ্যে আমি আশিকুর রহমান, সোহানুর রহমান ও মোহাম্মাদুল্লাহ ৩ জন পাহাড়ের উপরে উঠেছিলাম।
কে কে গেছিলেনঃ
আমরা মোট সাতজন গিয়েছিলাম।
১। আশিকুর রহমান
২। সোহানুর রহমান
৩। রইস মাহমুদ
৪। ফরহাদ হোসেন মীম
৫। মোহাম্মাদুল্লাহ
৬। মোখলেছুর রজমান কাজল
৭। ঈব্রাহীম খলিল
সর্বশেষ, আলহামদুলিল্লাহ আমরা খুব সুন্দর ভাবেই সেফলি সাতক্ষীরা পৌঁছেছি। যারা বাইক নিয়ে আসবেন খুব সাবধানে এবং সকল প্রকার সেফটি সাথে নিয়ে আসবেন।





1 মন্তব্যসমূহ
Wow
উত্তরমুছুন