সপ্নের বিলেত ভ্রমন ও এক অদ্ভুত মায়া

সপ্নের বিলেত ভ্রমন ও অদ্ভুত মায়া

এই ছবির মাহাত্ব্য আগে বর্ননা করি। এদের মধ্যে তিনজনের গল্প এক। একজনের সাথে আরেকজনের দেখা হয়েছে প্রায় ১২ বছর পর৷

আজ থেকে প্রায় ১৯ বছর আগে আমরা মিটফোর্ডে ক্লাশ শুরু করেছিলাম। আমাকে যারা চিনে তারা জানে কেমন মাস্তান টাইপ ছিলাম আমি। আমার শত্রু তালিকায় যারা প্রথম দিকে ছিল,  তাদের মধ্যে একজন কে তো বিয়েই করে ফেললাম। বাকি শত্রু দের মধ্যে গুরুতর শত্রু তালিকায় ছিল রিফাত। পঞ্চম বর্ষে যেয়ে সেই শত্রুতা বন্ধুত্বে বদল হয়েছিল। রিফাত আর শিমি র যখন বিয়ে হয়,  আমার মনে আছে,  কি বিশাল কেনাকাটার লিস্ট আমি আর শিমি মিলে তৈরী করলাম। আহারে কি দিন ছিল। আজকে শিমি র সাথে অল্পের জন্য দেখা হোল না,  এটা আমার বিশ্বাস ই হচ্ছে না। ভীষন মেধাবী সেই রিফাত এখন ভীষন ব্যাস্ত ডাক্তার। বন্ধুর জন্য আমরা গর্ব করি।

আরেকজন হোল শামীন। আমি যে কয়বার আমার বন্ধুদের জানিয়েছি যে লন্ডন যাচ্ছি। আমার চেয়ে শামীন বেশি উত্তেজিত ছিল। ওরা ডনক্যাস্টার বলে একটা শহরে থাকে। বার্মিংহ্যাম থেকে দেড় ঘন্টা দূরে। ছবির মত সুন্দর শহর। আমার স্বপ্নের মত সুন্দর। লাল ইটের বাড়ি সব, সাজানো ছবির মত। এত গাছ,  এত গাছ,  আমি অনেক দিন কোন শহরে দেখিনি। হটাত কোন কোন গলিকে মনে হবে ৩০ বছর আগের ঢাকার ধানমন্ডি।

১২ বছর আগের ফেব্রুয়ারী তে শামীন আর ইভান ভাই এর বিয়েতে গিয়েছিলাম। এর পর আর দেখা হয়নি। আজকে দুপুরে খাবারের টেবিলে আইটেম রাখার জায়গা ছিল না। বিশাল আয়োজন।  ওকে বলা হোল না, বন্ধু সারাজীবন শুধু নিয়েই গেলাম। ফেরত দিতে পারলাম কই।

গল্পে গল্পে পুরোটা বেলা যে কখন কেটে গেলো জানি না। এবার ফেরার পালা। ইভান ভাই যখন নামিয়ে দিয়ে যান, আমার কেন জানি খুব মন খারাপ হোল। আজকে সকালেই আমি মন ভরে লন্ডনকে গালাগালি করছিলাম। কেন টিউব স্টেশনে লিফট নাই,  কেন কারো মুখে হাসি নাই। নানা বিরক্তি। সেই আমিই মহা উতসাহে ইভান ভাই কে বললাম - ভাই আসি,  আবার দেখা হবে। সিডনী দাওয়াত রইলো।  আর আমি আবার এই ডনক্যাস্টার শহরে ফিরে আসবো। এই শহরে আমি দুই দিন থাকতে চাই।

মায়া বড় কঠিন জিনিস। আমাদের একেবারে অস্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলে। তবে মাঝে মাঝে অস্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকতেও বড় আরাম লাগে।

আমার বন্ধুদের আপনাদের প্রার্থনায় রাখবেন।

লিখেছেন: সুরঞ্জনা জেনিফার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ