হৃদয় বিদারক কিছু ঘটনা
১| ওরা রাতে এসে আমাকে ধরে নিয়ে গেল। সেই রাতে ওরা ছয় জনে মিলে আমাকে ধর্ষণ করল। এরপরে কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আরো চার বার আমি ধর্ষিত হয়েছি। এটা শুধু আমার একার চিত্র নয়। এরকম হাজারো মেয়েকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় ইজরাইলি কারাগারে। -বলছিলেন ফিলিস্তিনের গাজার ফাতেমা মুশাহিদ।
২| সন্ধ্যা নামলেই ওরা দল বেঁধে আসতো। নিরাপত্তা অভিযানের নাম করে পুরো শহরের প্রতিটা বাড়িতে তল্লাশি চালাত। এশার নামাজ পড়ে নামাজের পাটিতে বসে ছিলাম এক রাতে, আমার ১২ বছরের মেয়েটা আস্তে করে কোরআন তেলাওয়াত করছিল। হঠাৎই বাড়ির মেইন গেটে মার্কিন সৈন্যরা করাঘাত করল। জানতাম, আর রক্ষা নেই। মেয়েটাকে আলমারির মধ্যে ঢুকিয়ে রেখেছিলাম, কিন্তু ওরা সব জায়গায় সার্চ করে আমাকে আর আমার মেয়েটাকে ধরে নিয়ে গেল। দীর্ঘ আট মাস ইরাকের আবু গারিব কারাগারে আমাকে আর আমার ১২ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করছিল ওরা। এমনকি আমার সামনে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করতো, আবার মেয়ের সামনে আমাকে ধর্ষণ করতো! মরন কুপ থেকে যখন মুক্তি পেলাম তার সপ্তাহখানেক পরেই আমার ১২ বছরের মেয়েটা আত্মহত্যা করল আর আমি এখনো জীবন্ত লাশ হয়ে আছি। -বলছিলেন ইরাকের আবু গারিব কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক মা।
৩| একজন ১৭ বছরের একটা ফিলিস্তিনের গাজার ছেলের সাথে টুইটারে কথা হতো। ও জানালো ওর বয়স যখন ১০ বছর তখন ওকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটা অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়। সেখানে ও শুধু একা নয়, এরকম আরো অনেক গুলো বাচ্চাকে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা কোন পানি সরবরাহ করা হতো না, অমানুষিক নির্যাতন করা হতো অন্ধকার কারাগারে, প্রতি সপ্তাহে একটা করে ইনজেকশন দিতো ওদের শরীরে। হিব্রু ভাষায় লিখিত একটা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ওকে মুক্তি দেওয়া হল। ও হিব্রু ভাষা তখন জানত না। ওকে দ্বিতীয়বার যখন গ্রেফতার করা হয় ওর বয়স তখন ১৫ বছর। এবং তখনও একই কায়দায় ওকে নির্যাতন করা হয় এবং মুক্তির সময় হিব্রু ভাষার একটা সাদা কাগজ দেওয়া হয়। ও তখন হিব্রু ভাষা পড়তে জানে। তাতে লেখা ছিল - আমি আজীবন-এর জন্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গোলাম হিসেবে স্বাক্ষর করলাম এবং আমি আমার কৃত অপরাধ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে স্বীকার করেছি এবং যখন ইচ্ছা তখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আমাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে পারবে... এবং পরের বার যখন ও বাইরে এসে ডাক্তার দেখায়, ডাক্তার বলেন যে ওর শরীরে এমন কিছু ইনজেকশন করা হয়েছে যা নার্ভ সিস্টেমকে দুর্বল করে দিয়েছে, এবং এখন ও অর্ধ পাগল হয়ে গিয়েছে...।
এরকম কয়েক হাজার প্যারা লিখতে পারবো এমন ঘটনা আমার জানা আছে।
ভাই-বোনেরা, একবারও কি ভেবেছেন এইসব নিপীড়িত নির্যাতিত ভাই বোনদের কথা? আমরা খাই-দাই-মাস্তি করি আর টিক টক ভিডিও বানাই। আসন্ন বিপদ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার।
বাংলাদেশের শীঘ্রই হয়ত এমন একটা সময় আসছে... কিছু না পারি অন্তত জায়নামাজে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য একটু দোয়া যেন করি। তারা যেন একটু শান্তিতে থাকতে পারে, অন্তত একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারে! ওদের ঘুম গুলো ওদের ছেড়ে পালিয়েছে...
আমরা তো একটি দেহের ন্যায়! কেন আমাদের ব্যথা লাগে না??
লিখেছেনঃ ইমরান হোসাইন


0 মন্তব্যসমূহ