২১ তলার উপর থেকে লাফিয়ে পড়েও বেঁচে গেলেন রেজয়ান

রেজওয়ান কিভাবে বেঁচে গেল৷

২১তলা থেকে লাফিয়ে পড়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেন রিজওয়ান। যেভাবে বেঁচে গেলেন ও এখন যেমন আছেন।

‘আগুনের ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। বার বার দম আটকে যাচ্ছিল। প্রাণ বাঁচাতে ২১তলা থেকে কার্নিশ বেয়ে নিচে নামার ঝুঁকি নেই। এয়ারকন্ডিশন সংলগ্ন কার্নিশ বেয়ে ঝুলে একটু নিচে নেমে আসি। পাশেই লোহার পাইপ, সেটি বেয়ে নিচে নামতে পারব- ভেবে দু’হাত দিয়ে সেটি জড়িয়ে ধরি।’

রেজওয়ান কিভাবে বেঁচে গেল৷

‘কিন্তু আগুনের তাপে তীব্র গরম হয়ে যাওয়া পাইপে হাত দেয়ামাত্র প্রচণ্ড তাপ অনুভব করি। সহ্য করতে না পেরে হাত ফসকে পড়ে যাই। ধোঁয়া আর আগুনের মধ্য দিয়ে তীব্র গতিতে নিচে পড়ে যাচ্ছি। হঠাৎ মনে হলো শরীরটা কোনো কিছুর সঙ্গে লেগে তীব্র ঝাঁকুনি খেল। তারপর আবারও নিচে পড়ে যাই।’

‘এই ধর ধর, এখনও বেঁচে আছে, অ্যাম্বুলেন্সে তাড়াতাড়ি কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠা। অনেক লোকের চিৎকার-চেচামেচির শব্দ পাচ্ছিলাম। এটুকু বুঝেছিলাম, তখনও মরিনি, বেঁচে আছি। এরপর আর কিছুই মনে নেই।’

কাছে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ভবনের চতুর্থ তলার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রিজওয়ান আহমেদ (৩৫)। গত ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের এফআর টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণে বাঁচতে রিজওয়ান আহমেদ ২১তলা ভবন থেকে নিচে নামতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ে যান। মারাত্মক আহত হন তিনি।

ঢামেক আইসিইউ’র বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসেন জানান, ২১তলা থেকে পড়ে গেলেও তিনি সরাসরি নিচে পড়েননি। ২১তলার পর তৃতীয় তলায় এসে মোটা ডিশ ও ইলেকট্রিক তারের ওপর আছড়ে পড়েন। এরপর নিচে পড়েন।

তিনি বলেন, মানুষের শরীরের ওপরের অংশ ভারী হওয়ায় অনেক ওপর থেকে পড়লে স্বাভাবিক কারণে মাথা নিচের দিকে থাকে। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তিনি তিনতলার তারের ওপর পড়েন। এ কারণে তার পড়ার গতি বাধাগ্রস্ত হয়। মাথা নিচের দিকে পড়েনি। পা নিচের দিকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম পা, ডান হাত ও দুই কলারবোন ভেঙে যায়। আগুনের মধ্য দিয়ে পড়ায় তার চেহারাও খানিকটা ঝলসে যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ