১১ বছর পর পরিবারকে ফিরে পাওয়া!
কাল বিকালে দোকানে বসে আড্ডা মারছিলাম। ফেসবুকে ঢু মারতেই দেখি Jafor Saleh ভাই ইনবক্সে একটা স্ক্রিনশট দিয়েছে। প্রথমে ভাবলাম মধ্য প্রাচ্যে অমুক বিধবা ধনী আছে যার স্বামী যুদ্ধে মারা গেসে। এখন তার বিশাল সম্পত্তি তুলতে হবে। যেহেতু ইমেইলে এ টাইপ স্প্যামিং এর সাথে পরিচিত তাই পাত্তা দিলাম না। পরে কি ভেবে যেন ভাল করে স্ক্রিনশট পড়লাম। পড়ে দেখি মিশর থেকে মেয়ে তার ফ্যামিলিকে খুজতেছে। মেয়ের গ্রাম আমাদের দাউদকান্দি।
এবার সিরিয়াস হয়ে গেলাম। জাফর ভাইকে বললাম ঐ মিশরীয় লোকের ফেসবুক আইডি লিংক দিতে। আইডি পেয়ে মেসেজ দিলাম। ঘণ্টা খানেক পর রিপ্লাই আসল। কথা বলে জানলাম সে মেয়ের হাজব্যান্ডের আত্মীয়। মেয়েটি ১১ বছর আগে তার ভাইয়ের সাথে মিশর যায়। দুর্ভাগ্যক্রমে ভাইকে হারিয়ে ফেলে। ভাইয়ের থেকে আলাদা হওয়ার পর থেকেই পরিবারের সাথে তার আর কোন যোগাযোগ নেই।
মেয়ে ও তার ভাই ২০০৮ সালের মিসরে পাড়ি জমায়। এরপর মেয়েটি সেখানে একাই থাকত। স্থানীয় এক মিশরীয়কে বিয়ে করে স্বামীর সাথেই থাকে এখন। মেয়ে অনেক দিন ধরে পরিবারকে খুজছে। কিন্তু কোন ভাবেই যোগাযোগ করতে পারেনি।
কোন কিছুতে অহেতুক বিলম্ব আমার সহ্য হয় না। তখনই খোজার কাজে নেমে গেলাম। মেয়ের কাছাকাছি গ্রামে থাকে অনলাইনের ছোট ভাই S M Shahadat Hossain। নক দিলাম তাকে। তার খবর নাই দেখে একই এলাকার Zonayed Ahmed কে নক দিলাম। জুনায়েদ রাতে মেসেজ দেখেই শাহাদাতকে কল দিল। কল দেওয়ার পর শাহাদাত আমার সাথে যোগাযোগ শুরু করে। ব্যাপারটা ভেরিফাই করার জন্য আমি মিশরীয়র কাছে মেয়ের পাসপোর্টের ছবি চাই৷ ১ মিনিটের মাথায় সব হাজির। শাহাদাতকে সব তথ্য দিয়ে দিলাম। সাথে মেয়ের সাথে স্কাইপে কথা বলিয়ে দিলাম। সেখানে আরেক ঝামেলা। মেয়ে বাংলা প্রায় ভুলেই গেছে। ইংরেজিও জানে না। শাহাদাত অনেক কষ্টে গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে নিল। রাতেই ওর এলাকায় খোজ লাগাল।
।
অবশেষে ভোর ৫ টার দিকে মেয়ের বাবা মায়ের খবর পাওয়া যায়। তারা ভাবছিল মেয়ে হয়ত মারাই গেছে। মেয়ের বাবা মায়ের ফোন নাম্বার নিয়ে কাক ডাকা ভোরেই শাহাদাত মিশরে কল দেয়। ১১ বছর পর পরিবারকে ফিরে পেয়ে মেয়েটি ফোনেই কেঁদে ফেলে। এ কান্না কৃতজ্ঞতার, এ কান্না পরিবারকে কাছে পাওয়ার।
ধন্যবাদ শাহাদাত ও জুনায়েদকে। তোমাদের হেল্প ছাড়া সম্ভব হত না।
লিখেছেনঃ
মাসুদ সরকার রানা
0 মন্তব্যসমূহ